“একটি FB স্ট্যাটাস, কিছু মন্তব্য এবং চ্যানেল আই”

গত সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে FB’তে আমার দেয়া স্ট্যাটাসটি ছিলো অনেকটা এমন-

চ্যানেল আইয়ের সাবেক কর্মি Saif Ibne Rafiq তার সাম্প্রতিক স্ট্যাটাসে বলেছেন-“প্রতীক, মাহবুব মতিন এবং সবশেষে টিটন; আমার সন্দেহ, তিনজনের মৃত্যুর জন্যই চ্যানেল আইয়ের অতিরিক্ত কাজের চাপ দায়ী”। এ ব্যাপারে শ্রদ্ধেয় Faridur Reza কি মনে করেন- জানার ইচ্ছা ছিলো।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত Hisam Khan Setu, Sheikh Mamun, Sh Donas-সহ আরো অন্যান্য 15 জনের এটা ভালো লেগেছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- এই একটি স্ট্যাটাসের কারণে আমার FB একাউন্ট থেকে অনেকগুলো প্রিয় মানুষ নীরবেই হারিয়ে গেছেন। আরো মজার বিষয় হচ্ছে- অনেকেই এই স্ট্যাটাস থেকে স্ব-যন্তে নিজের মন্তব্যগুলো মুছে দিয়েছেন।একটু আগে এই বিষয়টি খেয়াল করেই এ পোস্টটি তৈরীর তাগিদ অনুভব করলাম। পোষ্টটির নিম্নাঙ্গে মূলত ওই স্ট্যাটাসের সকল মন্তব্য ক্রমানুয়ায়ী সংরক্ষণ করলাম। এর মধ্যে বিশেষ উপায়ে উদ্ধারকৃত মুছে ফেলা মন্তব্যগুলোও রয়েছে।

শরীফ খিয়াম আহমেদ ঈয়ন : কারণ সাক্ষাতে Saif Ibne Rafiq তার এ সন্দেহের কারণটাও ব্যাখ্যা করেন। সে ব্যাখ্যা শুধু বিস্মিত করেনি; ভয়ও পাইয়ে দিয়েছে। আর এই সন্দেহ সত্যি হলে প্রতীক-মতিন-টিটনদের তালিকা লম্বা হতে বেশী সময় লাগবে না। তাই…

Milon Raju : ???????????

Araai Ruka : mane ki dost ???????????????????????

Saleh Biplob : সাইফ ইবনে রফিক ঠিক বলেননি। নিছক সন্দেহবশত এতো বড় অভিযোগ আনা যায় না।

Saif Ibne Rafiq : biplob bhai: শুভেচ্ছা। প্রতীক মারা গিয়েছিল অফিসেই। লাগাতার নাইট ডিউটি ছিল তার। মাহবুব মতিন অফিস থেকে বাড়ি ফিরে ২ ঘণ্টাও বাচেননি। তার ওপরো ছিল লাগাতার কাজের চাপ, সঙ্গে বাড়তি অফিসিয়াল মানসিক নির্যাতন। আর টিটনতো মাঠেই মারা গেলেন_ ক্যামেরা চালা…তে চালাতে।
চ্যানেল আইয়ের কাজের চাপ আমার চেয়ে ভাল আর কে বলতে পারবে। লাগাতার ২ মাস নাইট ডিউটি করতে হয়েছে আমাকেও। ঢুকেছিলাম নিউজরুম এডিটর হিসেবে। কিন্তু আমাকে দিয়েতো প্রডাকশন, ভিডিও এডিটিং সবই করানো হতো। সঙ্গে অকথ্য গালাগালি আর অমানবিক নির্যাতন। রাত বারটার পর ডিউটি শেষ করে কিভাবে বাড়ি ফিরবো, জয়েন্ট নিউজ এডিটর হিসেবেতো সেই খেয়ালও রাখেননি আপনি।
আর বেতন-ভাতার কথা না হয় নাই বললাম।

শরীফ খিয়াম আহমেদ ঈয়ন ‎: Saif Ibne Rafiq তার নিজের স্ট্যাটাসের মন্তব্যে বলেছেন- আরও উদ্বেগের খবর হলো: নিহত ৩ জনেরই বয়স ৪২-এর নিচে। সবাই হার্ট এটাক, ব্রেইন স্ট্রোক জাতীয় দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। যে ক্ষেত্রে কাজের চাপের প্রসঙ্গটি কোনও ভাবেই উড়িয়ে দেয়া যায় না।

Saleh Biplob : সাইফ আপনি আংশিক জেনেছেন। প্রতীক আমার বন্ধু। নাইট ডিউটি তিনি নিজেই বেছে নিয়েছিলেন তাঁর পারিবারিক প্রয়োজনে। এটা জানা থাকলে আপনি বিভ্রান্ত হতেন না, বন্ধুদেরও করতেন না। মাহবুব ভাইয়ের কথা বললেন। ” মাহবুব মতিন অফিস থেকে বাড়ি ফিরে ২ ঘণ্টাও বাচেননি। “… এমন একটা অর্থহীন বাক্য আপনার মত সুলেখকের কাছে আশা করা যায় না। … ” জয়েন্ট নিউজ এডিটর হিসেবেতো সেই খেয়ালও রাখেননি আপনি। “…এই বাক্যটাও যে অর্থহীন, তা আপনার চেয়ে ভাল কে জানেন?? কারন আপনি খুব খুব খুব ভাল করেই জানেন, আমি অই পদ বহন করছি ৪ বছর হলও, কিন্তু ডেস্কে আমি বেশি দিন ছিলাম না, আমি মাঠে কাজ করাকেই বেটার মনে করেছি। আপনি একটা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন কেন সাইফ? আপনি ডাক্তার দেখান ভাইজান, আপনার স্মৃতি বিভ্রম ঘটেছে। কারন যতদিন ডেস্কে ছিলাম, আপনাকে নিজে বাসায় পৌঁছে দিয়েছি কত রাত, ভুলে গেলেন কেন? আপনি ভুললেও ড্রাইভাররা কিন্তু মনে রেখেছে।

Dupur Mitra : মিডিয়া হাউসগুলা এত ভয়ঙ্কর কেন

Saleh Biplob : আমার কমেন্টটা মুছে দিলেন কেন ইয়ন?? আবার লিখলে আবার মুছে দেবেন ! কিন্তু আমি ডেস্কে যখন কাজ করেছি, কত রাত, কত ভোর… নিজে সাইফকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছি, এটা কি আপনি জানেন ?? প্রতীক আমার বন্ধু। তিনি পারিবারিক প্রয়োজনে নিজেই নাইট শিফট বেছে নিয়েছিলেন, এটা আপনি না জানলেও সাইফ তো জানার কথা ! ওর কি স্মৃতি বিভ্রম ঘটেছে? বন্ধু হিসেবে আপনার তো জানা দরকার, আমারও।

Araai Ruka : ইয়ন তুই এ গুলা কি শুরু করলি মামা…..

শরীফ খিয়াম আহমেদ ঈয়ন : বিপ্লব ভাই, আমি মন্তব্যটা মুছে ফেলিনি। আপনার একই মন্তব্য অনেকগুলো হওয়ায় একটি কেটে দিয়েছিলাম। পরে দেখি সেটির একটিও নেই। আমি দু:খিত। আপনার ওই কমেন্টটি আবার দিয়ে দিচ্ছি। বন্ধুরা 2:35:17 PM-এ এক মন্তব্যে Saleh Biplob লিখেছিলেন “বিপ্লব ভাই, আমি মন্তব্যটা মুছে ফেলিনি। আপনার একই মন্তব্য অনেকগুলো হওয়ায় একটি কেটে দিয়েছিলাম। পরে দেখি সেটির একটিও নেই। আমি দু:খিত। আপনার ওই কমেন্টটি আবার দিয়ে দিচ্ছি। বন্ধুরা 2:35:17 PM-এ এক মন্তব্যে Saleh Biplob লিখেছিলেন “সাইফ আপনি আংশিক… জেনেছেন। প্রতীক আমার বন্ধু। নাইট ডিউটি তিনি নিজেই বেছে নিয়েছিলেন তাঁর পারিবারিক প্রয়োজনে। এটা জানা থাকলে আপনি বিভ্রান্ত হতেন না, বন্ধুদেরও করতেন না। মাহবুব ভাইয়ের কথা বললেন। ” মাহবুব মতিন অফিস থেকে বাড়ি ফিরে ২ ঘণ্টাও বাচেননি। “… এমন একটা অর্থহীন বাক্য আপনার মত সুলেখকের কাছে আশা করা যায় না। … ” জয়েন্ট নিউজ এডিটর হিসেবেতো সেই খেয়ালও রাখেননি আপনি। “…এই বাক্যটাও যে অর্থহীন, তা আপনার চেয়ে ভাল কে জানেন?? কারন আপনি খুব খুব খুব ভাল করেই জানেন, আমি অই পদ বহন করছি ৪ বছর হলও, কিন্তু ডেস্কে আমি বেশি দিন ছিলাম না, আমি মাঠে কাজ করাকেই বেটার মনে করেছি। আপনি একটা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন কেন সাইফ? আপনি ডাক্তার দেখান ভাইজান, আপনার স্মৃতি বিভ্রম ঘটেছে। কারন যতদিন ডেস্কে ছিলাম, আপনাকে নিজে বাসায় পৌঁছে দিয়েছি কত রাত, ভুলে গেলেন কেন? আপনি ভুললেও ড্রাইভাররা কিন্তু মনে রেখেছে।”

Saif Ibne Rafiq : বিপ্লব ভাই, কমেন্টটা ব্যক্তিগতভাবে নিয়েন না। আমি ওই প্রতিষ্ঠানটির কথা বলছিলাম।
রাতের পালার ডিউটি শেষ করে ১২টার দিকে ফেরার জন্য ৩ বছরেও আমাকে গাড়ির লিফট দেয়নি চ্যানেল আই। অথচ সন্ধ্যা থেকেই সাকুরা বারের সামনে চ্যানেল আইয়ের নিউজের একটা গাড়ি দাড়িয়ে থাকতো। যাক থলের বিড়াল আর না বের হোক। সকাল ৭টার ডিউটিতে ১০ মিনিট দেরি হলেই অকথ্য ভাষায় গালাগালি চলতো, অথচ কিভাবে অফিসে এলাম এটা নিয়ে কারো কোনদিন মাথাব্যাথা দেখিনি। শীতকালে এমন বহুদিন গেছে রিং রোডে আমি একাই হাটছি সকালে, অফিসে যাচ্ছি।
আর বিপ্লব ভাই, মিডিয়া মাফিয়াদের সঙ্গে কি আমার যুদ্ধ করা মানায়? তবে তারা খুন করেছেন। আমি তাদের খুনি বলতেই পারি। আর খুনি বলেই হয়তো কেউ কেউ চাষা থেকে নোবেল জয়ের স্বপ্ন দেখেন।

শরীফ খিয়াম আহমেদ ঈয়ন : কিন্তু Saif ভাই; Biplob ভাই কিন্তু আপনাকে বলেছেন-“আপনি ডাক্তার দেখান ভাইজান, আপনার স্মৃতি বিভ্রম ঘটেছে। কারন যতদিন ডেস্কে ছিলাম, আপনাকে নিজে বাসায় পৌঁছে দিয়েছি কত রাত, ভুলে গেলেন কেন? আপনি ভুললেও ড্রাইভাররা কিন্তু মনে রেখেছে।” তবে কি আপনার “রাতের পালার ডিউটি শেষ করে ১২টার দিকে ফেরার জন্য ৩ বছরেও আমাকে গাড়ির লিফট দেয়নি চ্যানেল আই।”-এ কথা কি অসত্য..?

Costal Sidor : eigulo na bolle hoy an eon

মুজিব মেহদী : ভাগ্যিস সাইফ চ্যানেল আই ছেড়ে বেঁচে গেছেন! এ তথ্য সত্য হলে তো চ্যানেল আইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।

Saif Ibne Rafiq : বিপ্লব ভাইয়ের গাড়ির লিফট আর চ্যানেল আইয়ের লিফট এক কথা নয়। তাছাড়া, ঈয়ন, গাড়িটা এখানে মুখ্য নয়। আসল কথা হলো যাদের শ্রমে চ্যানেল আই টাকার পাহাড় বানিয়েছে, তাদের পুরোটাই শুষে খেয়েছে। হত্যাও করেছে।
বিপ্লব ভাইও আমার বেশ পছন্দের। যোগ্যতায় ঘাটতি নেই, অথচ তাকেওতো চ্যানেল আইয়ে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। তবু দীর্ঘ প্রেম বলে কথা; রক্তচোষা প্রতিষ্ঠানটির মায়ায় তিনি এই ডিফেন্স দিচ্ছেন।
চ্যানেল আইয়ে আমি একা যে কাজগুলো এক শিফটে করতাম, অন্য চ্যানেলগুলোতে তা কমপক্ষে ৩ জনে করে। এতে আমার দক্ষতা যেমন বেড়েছে, তেমনি আমাকে ঠকানোর টাকায় তেজগাঁওয়ে ওই সুদৃশ্য বিল্ডিং। মজার ব্যাপার হলো, ওই বিল্ডিংয়ে লিফটে ওঠার যোগ্যতা আমার নেই। সেটা হাই-অফিশিয়ালদের জন্য বরাদ্দ।

Saif Ibne Rafiq : মুজিব ভাই: একশ বার ওয়ান ইলেভেন এলেও এদের বিরুদ্ধে মামলা হবে না কখনো। প্রতিষ্ঠান কি জিনিষ, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।

Shameema Binte Rahman : good observation.

Ashraf Shishir : ‎Saif Ibne Rafiq, প্রতিষ্ঠান কি জিনিষ, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি !!!!!!!!!!

হয়ত এখানেই বিষয়টি শেষ হয়ে গেলো; কিংবা এ কেবলই সূত্রপাত।

This entry was posted in Uncategorized and tagged , , . Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s